প্রচণ্ড বৈদ্যুতিক ছুতার

ওঃ মরে যাব মরে যাব মরে যাব

প্রচণ্ড বৈদ্যুতিক ছুতার কবিতা নিয়ে ফিল্মের পোস্টার

প্রচণ্ড বৈদ্যুতিক ছুতার কবিতা নিয়ে ফিল্মের পোস্টার

আমার চামড়ার লহমা জ্বলে যাচ্ছে অকাট্য তুরুপে

আমি কী কোর্বো কোথায় যাব ওঃ কিছুই ভাল্লাগছে না

সাহিত্য-ফাহিত্য লাথি মেরে চলে যাব শুভা

শুভা আমাকে তোমার তরমুজ আঙরাখার ভেতর চলে যেতে দাও

চুর্মার অন্ধকারে জাফ্রান মশারির আলুলায়িত ছায়ায়

সমস্ত নোঙর তুলে নেবার পর শেষ নোঙর আমাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে

আর আমি পার্ছি না, অজস্র কাচ ভেঙে যাচ্ছে কর্টেক্সে

আমি জানি শুভা, যোনি মেলে ধরো, শান্তি দাও

প্রতিটি শিরা অশ্রুস্রোত বয়ে নিয়ে যাচ্ছে হৃদয়াভিগর্ভে

শাশ্বত অসুস্হতায় পচে যাচ্ছে মগজের সংক্রামক স্ফুলিঙ্গ

মা, তুমি আমায় কঙ্কালরূপে ভূমিষ্ঠ করলে না কেন ?

তাহলে আমি দুকোটি আলোকবর্ষ ঈশ্বরের পোঁদে চুমু খেতুম

কিন্তু কিছুই ভালো লাগে না আমার কিছুই ভালো লাগছে না

একাধিক চুমো খেলে আমার গা গুলোয়

ধর্ষণকালে নারীকে ভুলে গিয়ে শিল্পে ফিরে এসেছি কতদিন

কবিতার আদিত্যবর্ণা মূত্রাশয়ে

এসব কী হচ্ছে জানি না তবু বুকের মধ্যে ঘটে যাচ্ছে অ্রহ

সব ভেঙে চুরমার করে দেব শালা

ছিন্নভিন্ন করে দেব তোমাদের পাঁজরাবদ্ধ উৎসব

শুভাকে হিঁচড়ে উঠিয়ে নিয়ে যাব আমার ক্ষুধায়

দিতেই হবে শুভাকে

ওঃ মলয়

কোল্কাতাকে আর্দ্র ও পিচ্ছিল বরাঙ্গের মিছিল মনে হচ্ছে আজ

কিন্তু আমাকে নিয়ে কী কোর্বো বুঝতে পার্ছিনা

আমার স্মৃতিশক্তি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে

আমাকে মৃত্যুর দিকে যেতে দাও একা

আমাকে ধর্ষণ ও মরে যাওয়া শিখে নিতে হয়নি

প্রস্রাবের পর শেষ ফোঁটা ঝাড়ার দায়িত্ব আমায় শিখতে হয়নি

অন্ধকারে শুভার পাশে গিয়ে শুয়ে-পড়া শিখতে হয়নি

শিখতে হয়নি নন্দিতার বুকের ওপর শুয়ে ফরাসি চামড়ার ব্যবহার

অথচ আমি চেয়েছিলুম আলেয়ার নতুন জবার মতো যোনির সুস্হতা

আজ আমি মগজের শরণাপন্ন বিপর্যয়ের দিকে চলে এলুম

আমি বুঝতে পার্ছিনা কী জন্যে আমি বেঁচে থাকতে চাইছি

আমার পূর্বপুরুষ লম্পট সাবর্ণ চৌধুরীদের কথা আমি ভাবছি

আমাকে নতুন ও ভিন্নতর কিছু কোর্তে হবে

শুভার স্তনের ত্বকের মতো বিছানায় শেষবার ঘুমোতে দাও আমায়

জন্মমুহূর্তের তীব্রচ্ছটা সূর্যজখম মনে পড়ছে

আমি আমার নিজের মৃত্যু দেখে যেতে চাই

মলয় রায়চৌধুরীর প্রয়োজন পৃথিবীর ছিল না

তোমার তীব্র রূপালি য়ুটেরাসে ঘুমোতে দাও কিছুকাল শুভা

শান্তি দাও শুভা শান্তি দাও

তোমার ঋতুস্রাবে ধুয়ে যেতে দাও আমার পাপতাড়িত কঙ্কাল

আমাকে তোমারি গর্ভে আমার শুক্র থেকে জন্ম নিতে দাও

আমার বাবা-মা অন্য হলেও কি আমি এরকম হতুম ?

সম্পূর্ণ ভিন্ন এক শুক্র থেকে মলয় ওর্ফে আমি হতে পার্তুম ?

আমার বাবার অন্য নারীর গর্ভে ঢুকেও কি মলয় হতুম ?

শুভা না থাকলে আমি কি পেশাদার ভালোলোক হতুম মৃত ভায়ের মতন ?

ওঃ বলুক কেউ এসবের জবাবদিহি করুক

শুভা ওঃ শুভা

তোমার সেলোফেন সতীচ্ছদের মধ্যে দিয়ে পৃথিবীটা দেখতে দাও

পুনরায় সবুজ তোষকের ওপর চলে এসো শুভা

যেমন ক্যাথোড রশ্মিকে তীক্ষ্ণধী চুম্বকের আঁচ মেরে তুলতে হয়

১৯৫৬ সালের সেই এস্তনেস্তকারী চিঠি মনে পড়ছে

তখন ভাল্লুখের ছাল দিয়ে সাজানো হচ্ছিল তোমার ক্লিটোরিসের আশপাশ

পাঁজর নিকুচি-করা ঝুরি তখন তোমার স্তনে নামছে

হুঁশাহুঁশহীন গাফিলতির বর্ত্মে স্ফীত হয়ে উঠছে নির্বোধ আত্মীয়তা

আ আ আ আ আ আ আ আ আ আঃ

মরে যাব কিনা বুঝতে পার্ছিনা

তুল্কালাম হয়ে যাচ্ছে বুকের ভেতরকার সমগ্র অসহায়তায়

সব কিছু ভেঙে তছনছ করে দিয়ে যাব

শিল্পর জন্যে সক্কোলকে ভেঙে খানখান করে দোবো

কবিতার জন্যে আত্মহত্যা ছাড়া স্বাভাবিকতা নেই

শুভা

আমাকে তোমার ল্যাবিয়া ম্যাজোরার স্মরণাতীত অসংযমে প্রবেশ কোর্তে দাও

দুঃখহীন আয়াসের আশম্ভাব্যতায় যেরে দাও

বেসামাল হৃদয়বত্তার স্বর্ণসবুজে

কেন আমি হারিয়ে যাইনি আমার মায়ের যোনিবর্ত্মে

কেন আমি পিতার আত্মমৈথুনের পর তাঁর পেচ্ছাপে বয়ে যাইনি

কেন আমি রজোস্রাবে মিশে যাইনি শ্লেষ্মায়

অথচ আমার নিচে চিৎ আধবোজা অবস্হায়

আরামগ্রহণকারিনী শুভেকে দেখে কষ্ট হয়েছে আমার

এরকম অসহায় চেহারা ফুটিয়েও নারী বিশ্বাসঘাতিনী হয়

আজ মনে হয় নারী ও শিল্পের মত বিশ্বাসঘাতিনী কিছু নেই

এখন আমার হিংস্র হৃৎপিণ্ড অসম্ভব মৃত্যর দিকে যাচ্ছে

মাটি ফুঁড়ে জলের ঘূর্ণি আমার গলা ওব্দি উঠে আসছে

আমি মরে যাব

ওঃ এসমস্ত কী ঘটছে আমার মধ্যে

আমি আমার হাত হাতের চেটো খুঁজে পাচ্ছি না

পায়জামায় শুকিয়ে-যাওয়া বীর্য থেকে ডানা মেলছে

৩০০০০০ শিশু ছুটে যাচ্ছে শুভার স্তনমণ্ডলির দিকে

ঝাঁকে ঝাঁকে ছুঁচ ছুটে যাচ্ছে রক্ত থেকে কবিতায়

এখন আমার জেদি ঠ্যাঠের চোরাচালান সেঁদোতে চাইছে

হিপ্নোটিক শব্দরাজ্য থেকে ফাঁসানো মৃত্যুভেদী যৌন-পর্চুলায়

ঘরের প্রত্যেকটা দেয়ালে মার্মুখী নআয়না লাগিয়ে আমি দেখছি

কয়েকটা ন্যাংটো মলয়কে ছেড়ে দিয়ে তার অপ্রতিষ্ঠিত খেয়োখেয়ি

( হাংরি বুলেটিন, ১৯৬৪)

এই কবিতাটি রচনার জন্য মলয় রায়চৌধুরীকে কোমরে দড়ি বেঁধে হাতে হাতকড়া পরিয়ে সেপ্টেম্বর ১৯৬৪-এ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কলকাতার নিম্ন আদালতে সে-কারণে তিনি দোষী সাব্যস্ট হন ও তাঁকে একমাসের কারাদণ্ডের সাজা দেয়া হয়েছিল। সাজা ঘোষণার প্রধান কারণ ছিল তাঁর দুই সঙ্গী, শৈলেশ্বর ঘোষ ও সুভাষ ঘোষ পুলিসের পক্ষে ও মলয়ের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন— তাঁরা দুজনে মুচলেকাও লিখে দিয়েছিলেন। যাই হোন, ৩৫ মাস ধরে মামলা চলার পর ১৯৬৭ সালে উচ্চ আদালত মলয়কে নির্দোষ ঘোষণা করেন।

[ ইউ টিউবে কবিতাটির আবৃত্তি রেকর্ড করেছেন তিনজন : ফ্লোরিডা নিবাসী কবি শিবাশীষ দাশগুপ্ত ; চট্টগ্রাম নিবাসী আবৃত্তিশিল্পী নুর হোসাইন ( ছদ্মনাম মনবন্দী ) ও ঢাকানিবাসী প্রযুক্তিবিদ রাজিব চৌধুরী ]

About Hungryalist Archive

Keep reading and get enlightened
This entry was posted in হাংরি আন্দোলনের কবিতা and tagged . Bookmark the permalink.

1 Response to প্রচণ্ড বৈদ্যুতিক ছুতার

  1. mirmdshawanahmed বলেছেন:

    interesting

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s