আমার মহাপরিনির্বাণ – একটি পোস্টমডার্ন কবিতা

উৎসর্গ : অর্ঘ্য দত্ত

“রাস্তার সব আলো নিভিয়ে অন্ধকার করে দেয়া হয়েছিল

দরোজায় টোকা দিতে বাইরে বেরোলেই

পেছন থেকে চুলের মুঠি ধরে গলায় কাস্তে চালিয়ে দিলুম

জিভে রক্তের ছিটে এসে লাগল

সেই থেকে রক্তের প্রতি আমার ভালোবাসা

এখন করোটিতে ভরে রক্তপান করি

তখন তো আমি সতেরো বছরের যুবতী

এখন বয়স হয়েছে এখন আমি তন্ত্রসাধিকা

অমাবস্যার রাতে চিতা থেকে আধপোড়া

মাংস এনে দেয় ডোম, খাই ; আমি  ব্রহ্মাণ্ডের সঙ্গে একাত্ম

এখন আমি করোটিকে অমাবস্যায় জাগিয়ে তুলি

মেয়েরা যে কংশাল ছিল তা অনেকে জানে না

আমরা চারজন মেয়ে ছিলুম

দুজনের কাজ ছিল গলার নলি কেটে দেবার পর

লাশের মুখে আলকাতরা মাখানো

ঠেলাগাড়িতে তুলে গঙ্গায় নিয়ে গিয়ে ভাসানো–

আমার দোসর এই বাউল প্রাণেরপুতুল দাস

ও নকশাল ছিল, বিদ্যাসাগরের মূর্তির মাথা

ওইই কেটেছিল”

.

শুনে,  আমার চোখ নিজের  পাতা ফেলতে ভুলে গিয়েছিল

ওনার চোখ দুটো এখনও বড়ো আর কাজলটানা

শুনে,  আমার ঠোঁটদুটো হাঁ-মুখ বন্ধ করতে ভুলে গিয়েছিল

ওনার প্রৌঢ় গালে এখনও রক্তের পাউডার মাখানো

মাটিতে গোঁজা ত্রিশূলে টাঙানো তেলসিঁদুর মাখানো করোটি

দুটো করোটিতে তরল রক্ত রাখা

করোটিগুলো হয়তো কোনো কবির

করোটিগুলো হয়তো কোনো ভাস্করের

করোটিগুলো হয়তো কোনো ছবি-আঁকিয়ের

ছাগল বলি দিয়ে পূণ্যার্থী দিয়ে গেল তরল চটচটে রক্ত

হাড়িকাঠে ছাগলেরর মাথা ঢুকিয়ে শিঙ ধরে টেনে রেখেছিল পূণ্যার্থী

আমার গায়ে বরফমাখা ঘামের কাঁটা

.

বাউল প্রাণেরপুতুল দাস-এর দিকে তাকালুম

তার মুখে হাসি হাতে একতারা রঙিন তাপ্পি দেয়া পোশাক

বুক দেখা যাচ্ছে, চুল নেই

অমাবস্যার অন্ধকার কেটে-কেটে ওনার কথা

“হ্যাঁ, আমিই বিদ্যাসাগরের মূর্তির মাথা কেটেছিলুম

আমি অনেক শ্রেণীশত্রুকে গুলি করে মেরেছিলুম

অনেক জোতদারকে কুপিয়ে খুন করেছিলুম

রক্তের প্রতি আমার টান আমায় এই সাধিকার কাছে এনেছে

আমরা একই পথের যাত্রী, আমি প্রেমসুধা পান করি

ও রক্তপান করে

আমি প্রেমের গান গাই একতারা বাজাই নাচি

ও মন্ত্র পড়ে ধুনো দেয় নাচে

আমাদের গন্তব্য নেই তীর্থ নেই চাওয়া-পাওয়া নেই

আমরা দুজনে একই জায়গায় রয়েছি আর থাকবো

আমাদের মনে আর শরীরে যা ঘটার তা আমরা ঘটিয়ে ফেলেছি”

.

শুনতে শুনতে টের পাই

শুনতে শুনতে বুঝি

আমার মহাপরিনির্বাণ ঘটছে

 

 

About Hungryalist Archive

Keep reading and get enlightened
This entry was posted in Malay Roychoudhury. Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s