জেরা

ওভাবে লিখেছিস কেন ? কার নাম ? খাতা নোংরা করিস রোজ-রোজ ?

আমি তো নিজেই জানি না কার নাম শুকনো খোলায় জিরে ভাজলে ওঠে!

এসব তোমারই কাণ্ড, বাবা-মা শেখায়নি কী করে ডিগবাজি খাবে

নদীর ভেতরে ডুবে ? মাছেদের সঙ্গে কী-কী কথা হয় ? ইলিশ না কালবোস?

ধরে এনে থার্ড ডিগ্রি দিলেই পেট থেকে গলগল করে বেরোবে জাহাজ !

এ-শালা সহজে মুখ খুলবে না, এককালে সরকারি খোচর ছিল ব্যাটা

এখন সুপারি কিলার হয়ে বিদ্যুতের নলি কেটে গাঁ-গঞ্জ ভাসায়

ঠ্যাঙ বেঁধে টাঙিয়ে দে, পোঁদে হুড়কো কর, হয়তো হীরেগুলো

ঝরে পড়বে ঈগলের ডানা মেলে,  বখরা পাবি দোআঁশলা বাপ

একাধিক, টেরি কেটে বানভাসি শহরে গোঁত্তা মারবে, জেরা কর জেরা

নির্ঘাৎ পাতলা হয়ে এসেছে শুক্ররসের সাঁতারুরা, হায় মৌলা কী করলা

এ রে কয় জেরা ? হাত-পা-মুখ বেঁধে ওর নদীতে ভাসাস যদি কোনো

শালা কুমির-শুশুক-হাঙর মাস্তান ন্যাপালা বের করবে না, দেখে নিস

লেখা ডান দিকে নাকি বাঁদিকপানে হেলে যায় ? জেরা করে বের কর

কবে মরতে চায় ? পূণ্য তিথি আছে একটা এই থমথমে চৈত্রের সেলে…..

Posted in Uncategorized | এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

টর্চার

মলয় রায়চৌধুরী

“এটা সত্যকথা বলার ঘর

এই ঘরে সবাই সত্য কথা বলে

সত্যকথা’র সংজ্ঞা আমাদের তৈরি

সত্য ওগরাতে হয়

না ওগরানো পর্যন্ত কোনো কথাই সত্য নয়”

Posted in Uncategorized | এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

কাঁদুন

মলয় রায়চৌধুরী

গর্ভের গোলাপি অন্ধকারে ছিলে হাসিমুখে

বেরিয়েই কাঁদতে আরম্ভ করলেন

না কাঁদলে থাবড়ে কাঁদানো হলো আপনাকে

প্রথম আলোয় আপনাকে কাঁদতে হবেই

কেননা আপনি একজন মানুষ

ঘোড়া-গণ্ডার-হাতিও বেরোবার সময় 

অতো উঁচু থেকে পড়ে, কিন্তু কাঁদে না

ওদের মা গা-চেটে পরিষ্কার করে দিলে

পড়েই আনন্দে লাফাতে আরম্ভ করে

আলোর গুরুত্ব বুঝেছেন আলোকিত হয়েছেন

তাই আপনি কাঁদুন আর অন্যদের কাঁদান

Posted in Uncategorized | এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

সংস্কৃতি কেন জৈবিক

Posted in Uncategorized | এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

রোবোটিক সততা

Posted in Uncategorized | এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

কান্নাপাড়ার চৌমাথায়

Posted in Uncategorized | এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

পপির ফুল

Posted in Uncategorized | এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

মাথা কেটে পাঠাচ্ছি যত্ন করে রেখো

Posted in Uncategorized | এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

ডারউইনের বর্ণচোরা

Posted in Uncategorized | এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

মা

যতো বুড়ো হচ্ছি ততো বেশি মনে পড়ছে মায়ের মুখ

বিভিন্ন বয়সের মুখ একই সঙ্গে

ক্যাথলিক স্কুলে যাচ্ছি — মা তো টা-টা করতে জানতেন না

দরোজার কপাট একটু-একটু করে বন্ধ করছেন

ইমলিতলার ঝোপড়ি থেকে তাড়ি খেয়ে ফিরেছি

কিছুক্ষণ পর মা নাকে আঙুল চাপা দিয়ে ইশারা করেছেন

ওপরে ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়তে নয়তো বাবা এসে জানতে পারবেন

মায়ের মুখে ভীতি যা আসলে আমার

ব্রা্হ্ম স্কুল থেকে ভিজে জামা সপসপে জুতোয় ফিরেছি

মা আগে থেকেই তৈরি ছিলেন গামছা আর হাফপ্যান্ট নিয়ে

অ্যালুমিনিয়ামের বাটিতে চিনেবাদাম দেয়া হালুয়া নিয়ে

বাটিটা মায়ের হাসির মতন তোবড়ানো

কুড়ি জনের সংসার সামলাতে হয় মাকে — উনি দেখান আমি কুড়ি নম্বরে

মৃদু হাসি দেখে টের পাই আমিই এক নম্বরে

বয়সের সঙ্গে তাল দিয়ে আমার আর মায়ের মুখ একইভাবে চুপসে থাকে

চোখ বুজে মায়ের হাজার খানেক মুখ মনে করতে পারি এখন

গ্রেপ্তার হবার সময়ে মায়ের আতঙ্কিত মুখ বেশি করে মনে পড়ে

অবাঙালি পত্রপত্রিকায় আমার ফোটো দেখে আবার হাসি ফিরে আসে

মা বেশ গর্বোদ্ধত নারী ছিলেন বুঝতে পারি চোখ বুজে

যাবার সময়ে ওই গর্ববোধ দিয়ে গিয়েছিলেন, সেই মুখও মনে আছে…

Posted in Uncategorized | এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান