অরুণেশ ঘোষকে লেখা একটি কবিতাপত্র

মলয় রায়চৌধুরী

একে কি কাকতালীয় বলব ? নাকি আপনি যেরকম লিখেছেন

স্পাইরাল ইতিহাসে পাক খেয়ে ঘটে-চলা অন্তর্বয়ন ? অরুণেশ ?

কেমন অদ্ভুত সত্যি ! অপঘাতে মৃত্যু হল আপনার উসযাপন করে

পঞ্চাশ বছর পূর্তি । পঞ্চাশ বছর! উনিশশো একষট্টি সনে

আমরা ক’জন মিলে, এ-সময় নাগাদই, বিলি করে তাক লাগাই

কলকাতার বিদ্বান বুদ্ধিমান বিদ্যায়তনিক আর ততোধিক

গম্ভীর প্রশাসক সম্পাদক ঝোলা-কাঁধে কমরেড-দাদাদের,

ফালিকাগজে ছাপা ইংরেজি ভাষায় লেখা ম্যানিফেস্টো কবিতার।

তখনও আপনাকে আমি দেখিনিকো আর এখনও আপনাকে

দেখতে না পারার দুঃখ, আপনার সাথে মুখোমুখি পরিচিত

না হবার দুঃখ, আপনার মূল্যবান অভিজ্ঞতা আপনারই কাছে

শুনতে না পারার দুঃখ, রয়ে গেল অরুণেশ । কেমন দেখতে ছিল

আপনাকে তরুণ বয়সে ? কেমন সে কন্ঠস্বর ? আপনি যখন আপনার

ঘনিষ্ঙ বেশ্যাদের পাশে বসে ফিসফিস করতেন, শুতেন তাদের সাথে !

জানি না কেমন হয় পশ্চিম বাংলার গেঁয়ো বেশ্যারা। হয়তো জানেন

আমি তো চিরটাকাল যাদের বেসেছি ভালো, শুয়েছি যাদের সাথে

তারা সব পৃথিবীর মহানগরের নারী, ইংরেজি ভাষায় যারা

ভালোবাসাবাসি করে, বিদেশি পারফিউম মেখে, দামি অন্তর্বাস খুলে

আলোকে লজ্জা দ্যায়। জানাই হল না আপনি স্হানিক বুলিতে

মজে কখনও আপনার গ্রাম ছেড়ে বেরোতে চাননি কেন–

অথচ দেখুন, মফসসল থেকে প্রায় কবিরা সবাই যান কলকাতায়

পাওয়া ও পাইয়ে দেবার ঘাঁটি সেখানেই রয়েছে মনে করে । এমনকী

আপনার প্রিয় জীবনানন্দ কিংবা আর্তুর র‌্যাঁবোও থাকতে চাননি গ্রামে।

এখন আপনার ফোটো দেখছি ইনটারনেটে, পাকা চুল বুড়োটে মানুষ

পুকুরে নেমেছেন বা সবুজ দিগন্তে ঘেরা খাটে বসে আদর করছেন

সংগ্রহের বইপত্র। গ্রামেতেও বসে কোথায় পেতেন প্রিয় বইগুলো

হাল আমলের সব বিদেশি লেখক আর কবিদের ডায়েরি ও বই ?

বহুবার আপনার খোঁজ করে বইমেলার স্টলে মাঠে

পাইনি আপনার দেখা। উত্তরবঙ্গ থেকে আসতেন নাকতলায়

আমার বাসায় যাঁরা তাঁদের কাছেও আপনার কবিতার গল্পের

কত কথা হত অথচ আপনার সাথে আলোচনা না করতে পারার

কোনো সুযোগই হল না । বোধহয় আমরা দুজনে দুই বিপরীত

মেরুর রাস্তা ধরে চলে গেছি দুই দিকে– আপনি সবুজ গ্রামে আর

আমি ছোটো শহরের গলি ছেড়ে আরও বড় শহরের ৪০-৫০ তলা

বাড়ির পাড়ায় যেখানে রাতের বেলা জেগে থাকে বাস-ট্রেন

সুপারহাইওয়ে জুড়ে চ্যাঁচামেচি গাড়ি জ্যাম বিরক্ত আলো।

আপনার লেখা পড়ে ভেবেছি অনেকদিন আপনি কি সেই

‘মেলাঙ্কলি ম্যান’– ভ্লাদিমির এসট্রাগনের কাঁধে হাত রেখে যিনি

রাজা লিয়ারকে বলছেন, চোখ খোলো তাকাও জীবনের পানে

হে এলিজাবেথ, হে মুখপুড়ি ব্রেন্টানো, উদ্বুদ্ধ করো গো এবার

বিঠোফেন শুমান ও ব্রাহমসের বাদ্যলিপিগুলো ওইখানে গিয়ে

ওই সিংগুরে ওই নন্দীগ্রামে ক্রুদ্ধ ও ক্ষুব্ধ এক কবির লেখায়…

( দেবাশিস দাস সম্পাদিত বিবৃতি পত্রিকার বিশেষ অরুণেশ ঘোষ সংখ্যা, যা ৩রা ডিসেম্বর ২০১১ মাথাভাঙা, কোচবিহার থেকে প্রকাশিত হয়েছিল, তা থেকে পুনঃপ্রকাশিত )

About Hungryalist Archive

Keep reading and get enlightened
This entry was posted in অপঘাত, Death by drowning and tagged , . Bookmark the permalink.

4 Responses to অরুণেশ ঘোষকে লেখা একটি কবিতাপত্র

  1. azad.haldibari.coochbehar বলেছেন:

    Chomotkar. . . . .

  2. Aapnakeo dhonnobad…..songkhati hatey aaseni……jaihok valo thakben……

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s